বুধবার , ২৪ আগস্ট ২০২২ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপ-সম্পাদকীয়
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশগ্রাম
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

মারধরের অপমানে বিষপানের অভিযোগ

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ২৪, ২০২২ ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মারধরের বিচার না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে কৃষ্ণ দেবনাথ (৪০) নামের এক অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে। উপজেলার ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার কৃষ্ণ ড্রাইভারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষ্ণ ওই বাড়ির মৃত মধুসুদন নাথের ছেলে।

কৃষ্ণ দেবনাথের ছেলে ইলেকট্রিক ও পাইপমিস্ত্রি সুব্রত দেবনাথ বলেন, ১৯ আগস্ট আমরা সবাই জন্মষ্টমী অনুষ্ঠানে ছিলাম। সন্ধ্যায় বাড়িতে আসার পর শুনি বাবাকে এলাকার নিখিল দাশ ও হৃদয় নাথ ওরফে ভুক্কু নামে দুই ছেলে মারধর করেছে। এরপর বাবা আর ঘরে ফিরে আসেনি। আমি ও আমার মায়ের সঙ্গে কয়েকদিন আগে বাবার ঝগড়া হওয়ায় আমরাও আর খোঁজ খবর নিইনি। নিখিল ও ভুক্কু মারধর করায় অপমান সইতে না পেরে রোববার (২১ আগস্ট) দুপুরে বাড়ির পাশে কালু ডাক্তারের বাগানে গিয়ে বিষ পান করেন বাবা। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাবাকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কৃষ্ণ দেবনাথের বড় ভাই নিমাই চন্দ্র নাথ বলেন, আমি শহরে ছিলাম। যখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তখন ঘটনা জানতে পারি। ভাইকে সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে এনে সৎকার করা হয়। আমি যতটুকু শুনেছি ও জেনেছি, আমাদের একই এলাকার শ্যামল নাথের ছেলে হৃদয় নাথ ভুক্কু ও শ্রীধাম দাশের ছেলে নিখিল দাশ আমার ভাইকে শুক্রবার লোহার শিকল দিয়ে মারধর করে। এরপর সে আর ঘরে আসেনি। তাকে মারধর করার বিষয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদও করেনি।

তিনি বলেন, নিজের ছেলের বয়সী ছেলেদের হাতে মারধরের শিকার হয়ে অপমানে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে আমার ভাই। আমার ভাই যদি কোনো দোষ করে থাকে এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আছে। মেম্বার-চেয়ারম্যান আছে বিচার করার জন্য। কিন্তু ১৮-২০ বছরের ছেলেরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা করবে কোন ক্ষমতার বলে?

তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় জড়িত ভুক্কুকে পুলিশ আটক করলেও পরে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে কৃষ্ণ দেবনাথের বাড়িতে গেলে এলাকার মানুষ বলেন, কৃষ্ণকে মারধর করার কারণে সে অভিমানে আত্মহত্যা করেছে। আমরা ভয়ে মুখ খুলতে পারছি না। এই এলাকায় সবাই দরিদ্র, তাই আমাদের কথা কেউ শুনছে না। সরকারি দলের প্রভাবশালী এক নেতার আশ্রয়, প্রশ্রয়ে নিখিল ও ভুক্কু এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে করা হোক।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্যামল দেওয়ানজি বলেন, মারা যাওয়া কৃষ্ণ নেশা করতো, এলাকার সবাই জানে। পরিবারের কোনো দায়িত্ব পালন করতো না। শুক্রবার সকালে স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা ওষুধের জন্য নিয়ে মদ পান করে ঘরে এসে স্ত্রীকে মারধর করতে চাচ্ছিল। এ সময় নিখিল ও ভুক্কু এসে তাকে মারধর করে। মারধরের ঘটনা আমি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেব বলেছিলাম। কিন্তু তার আগে সে বিষপানে আত্মহত্যা করে।

জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের বলেন, ঘটনার পর আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছি কৃষ্ণ দেবনাথ মাদক সেবন করতেন। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকের মামলাও রয়েছে। মারধরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভুক্কু নামের একজনকে আটকের বিষয়টি মোটেও সত্য না। মারা যাওয়ার ঘটনায় যদি কেউ মামলা করতে চায়, আমরা মামলা নেব।

 

সর্বশেষ - দেশজুড়ে