বুধবার , ৩১ আগস্ট ২০২২ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপ-সম্পাদকীয়
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশগ্রাম
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

দুঃখ প্রকাশ করে আদালতে ক্ষমা চাইলেন বিএফআইইউর প্রধান

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ৩১, ২০২২ ২:৫২ অপরাহ্ণ

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমাকারী বাংলাদেশিদের বিষয়ে সরকার নির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য চায়নি বলে দেশটির রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউর পক্ষ থেকে তথ্যাদিসংবলিত নথিপত্র গত মঙ্গলবার আদালতে তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। সংযুক্ত সব নথিপত্রে কারও নাম, ঠিকানা, পদবি ও সূত্র উল্লেখ না থাকায় হাইকোর্ট বিএফআইইউর প্রধানকে গতকাল বেলা ১১টায় আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। তিনি আদালতে উপস্থিত হন।

বিষয়টি আজ আদালতে উঠলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএফআইইউর প্রধান মাসুদ বিশ্বাস দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। মাসুদ বিশ্বাসের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘এভাবে কি কেউ চিঠি লেখে? উচ্চ আদালতে চিঠি পাঠাবেন নাম, ঠিকানা ও সূত্র উল্লেখ থাকবে না, এভাবে কাগজপত্র পাঠানো কি উদাসীনতা নয়? এবার ক্ষমা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন হলে দায়িত্বহীন কার্যক্রমের জন্য সিরিয়াস অ্যাকশন (কঠোর ব্যবস্থা) নেওয়া হবে।’

বিএফআইইউর প্রধানের উদ্দেশে আদালত আরও বলেন, ‘তথ্য চেয়ে ১৩–১৪ বার চিঠি দিয়েছেন (সুইজারল্যান্ড এফআইইউকে), এটি যথেষ্ট নয়। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগোতে হবে। আমরা চাই বাংলাদেশের টাকা বাংলাদেশে ফেরত আসুক। দেশ ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব। সংযুক্ত কাগজে সূত্রও উল্লেখ নেই, যা একেবারে দায়সারা। এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। সরকারের বেতন ভোগ করব, আউটপুট দেব না—এটি কাম্য নয়। এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

আদালত জানতে চান, বিএফআইইউর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের কতগুলো মামলা হয়েছে? বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, ২০১৭–২০১৮ থেকে ২০২১–২০২২ পর্যন্ত দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ৯৮৩টি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশে ৬৪৪টি অনুরোধপত্র পাঠানো হয়।

বিএফআইইউর প্রধান মাসুদ বিশ্বাসের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘শুধু চিঠি চালাচালি যথেষ্ট নয়। তদারক করতে হবে। সচেতনভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। কাজ কিছু করে দেখান। মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি নিয়ে আমরা কনসার্ন (উদ্বিগ্ন), এগুলো কমাতে হবে। কারা টাকা পাঠিয়েছে, তা বের করতে এখন দুই দেশের (দ্বিপক্ষীয়) চুক্তি হওয়া উচিত।’ তখন মাসুদ বিশ্বাস বলেন, আগে থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৭৯টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আদালত বলেন, ‘ভারত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছে। এ নিয়ে রায়ও আছে। ওই রায় পড়েন। তারা পারলে আমরা কেন পারব না?’

আদালত শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেন ২৬ অক্টোবর। এর মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তবে সেদিন মাসুদ বিশ্বাসকে উপস্থিত হতে হবে না।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আজ সকালে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার উল্লেখ করে আদালতে বলেন, বক্তব্যের জন্য সুইস রাষ্ট্রদূত দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে ক্ষমা চাইবেন না। আদালত বলেন, ডকুমেন্ট (নথি) আছে, লিখিত দিয়েছেন? জবাবে খুরশীদ আলম খান ‘না’ সূচক জবাব দেন। তখন আদালত বলেন, কোনো ডকুমেন্ট তো নেই। ডকুমেন্ট না থাকলে মুখের কথার কী মূল্য আছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিকাব টকে গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ড বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত সুইস ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য চায়নি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে পরদিন হাইকোর্ট সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চান।

গত ১৪ আগস্ট শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন আদালতে বলেছিলেন, বিএফআইইউর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের কাছে ৬৭ জনের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, সুইজারল্যান্ড থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২১ সালে দুদক বিএফআইইউর কাছে অনুরোধপত্র দেয়। এরপর বিএফআইইউ অনুরোধ করে সুইজারল্যান্ডের কাছে একটি তথ্য পেয়েছে, তা-ও অসম্পূর্ণ। শুনানি নিয়ে গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্রাদি যুক্ত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ঘটনা সম্পর্কে হলফনামা দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

এরপর গত সোমবার ঘটনা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউর তথ্যাদিসংবলিত নথিপত্র হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। লিখিতভাবে দুদকও ঘটনা সম্পর্কে হলফনামা আকারে তথ্যাদি দাখিল করে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতে ওঠে। শুনানিতে নথিপত্র তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। নথিপত্রে নাম, ঠিকানা, পদবি ও সূত্র উল্লেখ না থাকার বিষয়টি নজরে এলে সেদিন আদালত বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাসকে আজ বুধবার আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

 

সর্বশেষ - আইন-আদালত