সোমবার , ২৪ অক্টোবর ২০২২ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপ-সম্পাদকীয়
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশগ্রাম
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

মোহনীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ে ছুটছেন পর্যটকরা

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ২৪, ২০২২ ৩:০২ অপরাহ্ণ

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে প্রতি বছরের মতো এবারও কুয়াশা আর মেঘমুক্ত আকাশে দেখা দিয়েছে নয়নাভিরাম কাঞ্চনজঙ্ঘা। কখনো শুভ্র, গোলাপি আবার কখনো রক্তরাঙা আভা নিয়ে হাজির বরফচূড়া। পর্বতশৃঙ্গের এমন সৌন্দর্য দেখতে দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

প্রতিবছর অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কুয়াশা আর মেঘমুক্ত হেমন্তের আকাশে ভেসে ওঠে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম এই কাঞ্চনজঙ্ঘা। মাঝে মেঘের কারণে লুকিয়ে থাকলেও শনিবার (২২ অক্টোবর) থেকে প্রতিদিন সূর্যোদয়ের পর থেকে দিনভর দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এর আগে ১৭ অক্টোবর থেকে টানা তিনদিন দেখা দিয়েছিল পর্বতশৃঙ্গটি। ভারতের দার্জিলিংয়ের টাইগার হিলে দাঁড়িয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে তাকিয়ে পর্যটকেরা যে কাঞ্চনজঙ্ঘা উপভোগ করেন, তার চেয়ে ভালোভাবে এখন পঞ্চগড়ে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

এবছর আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় মহানন্দা পাড় থেকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য। এতে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। পঞ্চগড় জেলা শহর এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের সরকারি গেস্টহাউসের পাশাপাশি পূর্ণ হয়ে উঠেছে বেসরকারি বিভিন্ন আবাসিক হোটেল। খাবারের হোটেলে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। আর চট্টগ্রাম থেকে দূরত্ব ৭০০ কিলোমিটার। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সড়কপথে বাসে আসা যায় পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ায়। রেলপথেও আসা যায় পঞ্চগড় পর্যন্ত। রেলপথে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে। পঞ্চগড়-রাজশাহী রুটে চলাচল করে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস। এছাড়া আকাশপথে ঢাকা থেকে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পর্যন্ত আসা যায়। সেখান থেকে পঞ্চগড়ে আসতে হবে সড়কপথে।

পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে বাস কিংবা অন্য যে কোনো যানবাহনে তেঁতুলিয়ায় আসা যায় খুব সহজে। উপজেলা শহরের এক কিলোমিটারের মধ্যেই ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো। এই ডাকবাংলো ঘেঁষেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বয়ে চলা মহানন্দা নদী। ব্যক্তিগত বা ভাড়া গাড়িতে সরাসরি যাওয়া যায় মহানন্দার পাড়ে। অথবা তেঁতুলিয়া উপজেলা শহর থেকে ইজিবাইকে মহানন্দার পাড়ে যাওয়া যায় সহজে। জেলা শহর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।

সোমবার ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে মহানন্দার পাড়ে দাঁড়িয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপঙ্কর রায় বলেন, তিনদিন ধরে পঞ্চগড়ের উত্তর আকাশে সোনায় মোড়ানো কাঞ্চনজঙ্ঘা জেগে উঠেছে। কী যে অপূর্ব দৃশ্য! এমন সকাল দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় না আসলে জীবনে কিছুটা অপূর্ণতা থেকে যাবে।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকার রাজিউল ইসলাম বলেন, আমরা ছয় বন্ধু মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে সূর্যোদয়ের সময় তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর পাড়ে এসেছি। যা দেখলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এক কথা চমৎকার অনুভূতি। ছবির চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর এখান থেকে দেখা কাঞ্চনজঙ্ঘা।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, হিমালয় পর্বতমালার তৃতীয় উচ্চতম কাঞ্চনজঙ্ঘা আমাদের জন্য প্রকৃতির একটি আর্শীবাদ। মনোমুগ্ধকর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক পঞ্চগড়ে ছুটে আসেন। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো। পর্যটকদের আবাসন, যাতায়াত সুবিধাসহ যাবতীয় বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ভ্রমণপিপাসূ ও প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা মনেপ্রাণে প্রশান্তি নিয়েই ফিরে যাবেন বলে আমরা আশা করি।।

সর্বশেষ - দেশজুড়ে