শনিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২২ | ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপ-সম্পাদকীয়
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশগ্রাম
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

আমদানি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি কাজে আসছে

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ২৯, ২০২২ ৫:০২ পূর্বাহ্ণ

মূল্যস্ফীতির লাগাম আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলেছে জাতীয় অর্থনীতিতে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আমদানি কমাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে পণ্য আমদানি শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকে আমানতের হারও কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি বছর হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণ আমদানি বেড়ে যায়। এতে গত অর্থবছরে রেকর্ড আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যালান্স অব পেমেন্টের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ বিলিয়ন ডলারে। এ কারণে আমদানি নীতি আরও কঠিন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ অবস্থানের কারণে ক্রমান্বয়ে আমদানি কমতে থাকে। এতে সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে যায় ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে। অথচ গত আগস্ট মাসেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি বছরে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির তুলনায় ব্যাংকের আমানতের ওপর সুদহার ছিল কম। ব্যাংকের সার্ভিস চার্জও কর্তন করা হয়। এতে আমানতে খুব একটা লাভ হয় না। আর এ কারণে লোকজন এখন ব্যাংকে টাকা রাখছে কম। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোসহ নানা শর্ত দিয়ে সীমিত করা হয়েছে এর বিনিয়োগ। ফলে আগের মতো আর সঞ্চয়পত্রেও বিনিয়োগ হচ্ছে না। আবার মূল্যস্ফীতির কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে আমানত তুলে নেওয়ার প্রবণতা, এ ধারা চলমান রয়েছে। এতে ব্যাংকের আমানতেও টান পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন মতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় আগের বছরের একই সময়ে (২০২১ সালের সেপ্টেম্বর) বেসরকারি খাতে ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি ঋণ দেওয়া হয়। অর্থাৎ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়েছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। অথচ চলতি বছরের আগস্ট মাসেও ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে বকেয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে (২০২১ সালের সেপ্টেম্বর) ছিল ১২ লাখ ১০ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। চলতি বছরের আগস্ট মাসে যা ছিল ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা।

আলোচ্য সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের করা প্রাক্কলনের চেয়েও কম। চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের অর্থবছর ২০২১-২০২২ এ প্রাক্কলন করেছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। যদিও প্রাক্কলিত হারের চেয়ে তা ছিল অনেক কম। গত অর্থবছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের ঋণের যে প্রবৃদ্ধি ছিল, তা মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার প্রায় কাছাকাছি। তবে সেপ্টেম্বর মাসে সে প্রবৃদ্ধি আরও কমে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর প্রতিবেদন মতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য মোট ৫৭০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়। যা তার আগের মাস আগস্টের তুলনায় ৬৩ কোটি ডলার বা প্রায় ১০ শতাংশ কম। সেপ্টেম্বরে আমদানি এলসি নিষ্পত্তিও আগের মাসের চেয়ে ১৮ শতাংশ কমে ৬০০ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের মাস আগস্টে আমদানি এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ৭৩৩ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি দুটোই কমেছে। এছাড়া গত অর্থবছরে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ফেব্রুয়ারিতে এ খাতে প্রবৃদ্ধি কমে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে দাঁড়ায়। মার্চে সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে। এরপর ক্রমাগত বাড়তে থাকে ঋণ প্রবৃদ্ধি। জুলাই মাসে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশে।

সর্বশেষ - দেশজুড়ে