মঙ্গলবার , ১ নভেম্বর ২০২২ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপ-সম্পাদকীয়
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশগ্রাম
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

নির্বাচনের আগে বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
নভেম্বর ১, ২০২২ ২:২৫ অপরাহ্ণ

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। নাইকো, সিদ্ধিরগঞ্জ ও খাম্বা কোম্পানির দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান যে পরিমাণ লুটপাট করেছে সেই হিসাব আমাদের কাছে রয়েছে। নির্বাচন সামনে আসতেছে তো, প্রস্তুত থাকেন। সব দেখাবো।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের এ সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী প্রশ্নোত্তরের জবাব দেওয়ার সময় বারবার বিএনপি-জামায়াতের কথা টানছেন উল্লেখ করে তার কঠোর সমলোচনা করেন হারুন এবং বিএনপি আমলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কী ছিল তা জানতে চান।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ তার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রতিমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত সরকারের কথা কমপক্ষে ৫০ বার বলেছেন। যা প্রসঙ্গেই নাই। আপনি জানাবেন (বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী) বিএনপি সরকারের আমলে বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম কত ছিল? দায়মুক্তি কেন ১৫ বছর ধরে কেন বজায় রেখেছেন? বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে হরিলুট ও ভয়ানক অব্যবস্থাপনা চলছে- একদিন সময় দিন আমরা যারা বিএনপির এমপি আছি তারা দীর্ঘ আলোচনা করবো। আপনি ভূতের মুখে রামনাম গল্প শোনায়েন না।

তিনি বলেন, আমি আপনার কাছে স্পষ্ট জানতে চাচ্ছি বিএনপির সরকার গ্যাসের যে চুক্তি করেছে, সেটা আছে কি না? সেটা সংসদে উপস্থাপন করবেন। বিএনপির আমলে নিত্যপণ্যের দাম কত ছিল তার উত্তর দিন। শুধু বিএনপি জোট সরকারের সময় এই হচ্ছে, ওই হচ্ছে গল্প শোনাচ্ছেন।

স্পিকারের কাছে সংসদে জ্বালানি নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব করেন হারুন। তিনি বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব, এই ধরনের বিবৃতি হয় না। বিদ্যুৎ খাতে কী করেছেন সেই বিষয়গুলো বলেন। মানুষ বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার করছে। জ্বালানি উপদেষ্টা বলছেন দিনের বেলা বন্ধ রেখে রাতে বিদ্যুৎ দেবেন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়ানোর আশ্বাস জনগণকে দিন।

তিনি বলেন, এটা প্রশ্নোত্তর পর্ব। ৩০০ বিধিতে বিবৃতি নয়। এসময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী হারুনুর রশীদকে প্রশ্ন করার জন্য অনুরোধ করেন। হারুন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান বিএনপি সরকারের সময় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণের দাম কত ছিল?

হারুনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সংসদ সদস্য (হারুন) অনেক উত্তেজিত হয়ে গেছেন। অনেকে সত্যকথা সহজে নিতে পারেন না। আমিও চাই সংসদে সময় দেন। সেখানে জ্বালানি নিয়ে কথা বলবো।

নাইকো মামলা নিয়ে যে পরিমাণ প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। তাদের নেতা তারেক জিয়ার বন্ধু এবিআইয়ের কাছে যে পরিমাণ ওপেন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেগুলো আমরা দেখাবো। সেই সময় আমি তার (হারুনের) বক্তব্য শুনতে চাই তিনি কী বলেন। সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টে যে পরিমাণ টাকা চুরি করেছে সেগুলোর প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। সেগুলোই ডকুমেন্টসহ সংসদের ভিডিও স্ক্রিনে তাদের দেখাবো।

তিনি বলেন, খাম্বা কোম্পানি দিয়ে তারেক রহমান যে পরিমাণ লুটপাট করেছে তার হিসাব আমাদের কাছে আছে। সেই তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি। সময় হলে সব বের করবো। নির্বাচন সামনে আসছে তো, প্রস্তুত থাকেন। সব দেখাবো। বিএনপি জোট সরকারের সময় অন্ধকারে ১৭ ঘণ্টা ছিলেন। উনি বিদ্যুতের দামের কথা বলেন। আরে অন্ধকারে থাকার যে খরচ, সেই খরচের কথা বলেন।

বিএনপির সময় বিদ্যুতের সিস্টেম লস কত ছিল তা কি হারুনুর রশিদ জানেন নাকি তা জানতে চান নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, উনি ভুলে গেছেন। ৪৪ শতাংশ অপচয় ছিল। এটা দুর্নীতির মধ্যে পড়ে। তিন-তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন কি খামোখা হয়েছে তারা। এসময় পাশ থেকে একজন সংসদ সদস্য বলেন, টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তখন প্রতিমন্ত্রী সংশোধন করে বলেন পাঁচবার।

বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশ উদাহরণ হয় বিশ্বের কাছে… সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়। আর ওনারা করেছেন দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শেষ হয়ে যাবে যদি বক্তব্য দিতে হয় তাদের ব্যাপরে। কোনো প্রয়োজন নাই চাল, ডাল, গম কী দাম ছিল…। আরে ভাই আপনারা তো খাদ্যই দিতে পারেন নাই। গুলি করে মানুষ মেরেছেন। আবার দামের কথা জিজ্ঞেস করেন। আপনারা বিদ্যুৎই দিতে পারেন নাই ১৮ ঘণ্টা। কানসাটে গুলি করে মানুষ মেরেছেন। আমার এখনো খেয়াল আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া টঙ্গীতে গেছেন বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করতে। তিনি ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি, সেটা বন্ধ হয়ে গেছে।

এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সংসদে কথা না বলার অনুরোধ করেন নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, আমি জানি না কোন মুখে আপনারা কথা বলার সাহস করেন। হয়তো লজ্জা-শরম আপনাদের মাঝে নাই। ঘণ্টা পর ঘণ্টা বলত পারবো। তথ্য না শুধু প্রমাণদিসহ।

সর্বশেষ - দেশজুড়ে