রবিবার , ৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপ-সম্পাদকীয়
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশগ্রাম
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

নগদ উদ্যোক্তা হয়ে দিনবদলের লড়াই

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ৩, ২০২৩ ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

বরিশাল সদরের একটি ছিমছাম গলি। তেমন কোলাহল নেই, ভিড় নেই। এরমধ্যেই চোখে পড়ে ছোট্ট একটা সাইকেলের মতো বাহনে করে এগিয়ে যাচ্ছে কেউ। সাইকেলটিতে প্যাডেল করার কোনো উপায় নেই। কারণ আরোহীর তো পা-ই নেই। তিনি হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পৌঁছালেন দোকানের সামনে। হামাগুড়ি দেওয়ার মতো করে সাইকেল থেকে নেমে ঢুকে পড়েন দোকানে। অল্প সময়ের মধ্যেই তার দোকানের সামনে জমে যায় ভিড়। লোকেরা এসেছেন কেউ টাকা তুলবেন, কেউ টাকা পাঠাবেন বলে।

লোকটির নাম রনি হাওলাদার। জন্মের পরপরই পোলিওতে পা হারান রনি। আজ প্রতিবন্ধকতা জয় করে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন রনি। আর তার এ সংগ্রামের পাশে আছে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ।

মানুষটি একগাল হেসে বলেন, ‘লোকে আমারে ভালোবাসে। তাই আমি আসলেই দোকানে ভিড় জমে যায়। এখানে সবার কাছে আমি ভালোবাসার রনি।’

কেবল এরকম রনি নন, দেশে কয়েক শত প্রতিবন্ধী মানুষ তাদের জীবন লড়াই জয় করেছেন নগদের সঙ্গে। জীবন যখন তাদের সবদিক থেকেই ফিরিয়ে দিচ্ছিল, তখন নগদ উদ্যোক্তা হয়ে নিজেই গড়ে নিয়েছেন নিজের জীবন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশব্যাপী প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ। শহরের চেয়ে গ্রামে যে সংখ্যা কয়েকগুন বেশি। এদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ প্রতিবন্ধীই প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত যেতে পারে না। এ ছাড়া ৭৫ শতাংশই উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেরুতে পারে না। সঙ্গত কারণেই মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাতারে।

jagonews24

নগদ শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে যেমন পাশে দাঁডিয়েছেন । তেমনি ৭৫ শতাংশ ভাতা ও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নগদের মাধ্যমে।

রনির জীবনের গল্পটা বড় কঠিন। ছোটবেলায় পোলিওতে পা হারিয়েছিলেন। অচল হওয়াতে কেউ নিতে চায়নি তার দায়িত্ব। ফলে বাবা-মায়ের আদরও জোটেনি কপালে। নানীর কাছে বড় কষ্টে মানুষ হয়েছেন। একটু বড় হওয়ার পর জীবনটাকে দাড় করানোর জন্য বারবার চেষ্টা করেছেন।

রাস্তার পাশে দোকান দিয়েছেন, মানুষের দোকানে কাজ করেছেন; কিন্তু কিছুতেই টিকতে পারেননি। অবশেষে ছোট্ট একটা দোকান নিয়ে নগদের উদ্যোক্তা হয়েছেন। আর এই কাজেই পেয়েছেন সাফল্য। এখন দোকানের পাশাপাশি আরও কিছু জিনিসপত্র বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন।

নগদ যে তার জীবনটাকে বদলে দিয়েছে, সেটা বলছিলেন রনি, ‘নগদে লোকজনের খুব আগ্রহ। এখানে টাকা তুলতে খরচ কম, বিভিন্ন বিল দেওয়া যায় বিনা খরচে। তাই নগদ এজেন্ট হওয়ার পর অনেক কাস্টমার পাইছি। আর এতেই আমার জীবন বদলে গেছে।’

একইরকম জীবন বদলে গেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কবির হোসেনের। এই মানুষটিরও পা দুটো অচল। এছাড়া হৃদরোগ আছে। সমাজের চোখে একেবারেই বাতিল হয়ে যাওয়া মানুষটি ঘুরে দাড়িয়েছেন তার স্ত্রী আর নগদের কল্যাণে। যখন বার বার হোঁচট খাচ্ছিলেন, তখনই পরিকল্পনা করলেন এভাবে আর বসে থাকা চলবে না। নিজেই নিজের ভবিষ্যত গড়তে হবে। তারপর দোকান দিলেন, নগদ উদ্যোক্তা হলেন।

কবির বলছিলেন, ‘আমি কারো বোঝা হইতে চাই নাই। নিজেই কিছু করতে চাইছি। সেই সুযোগটা নগদ আমারে দিছে। আমি নগদের সঙ্গে কাজ করে এখন সাবলম্বী হইছি।’

দোকানে এখন নগদের পাশাপাশি কম্পিউটার, মোবাইলের যন্ত্রপাতি তুলেছেন, নিজে কম্পিউটারের কাজও করেন। ফলে বদলে গেছে তাঁর জীবন। এই জীবন নিয়ে এখন খুব খুশি স্বামী-স্ত্রী।
কবিরের জীবনে তার স্ত্রীর ভূমিকাও অসামান্য। তিনিই এই মানুষটাকে দোকানে তোলা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের সব কাজ করে দেন। কবিরের স্ত্রী বলছিলেন কিভাবে নগদ তাদের বদলে দিয়েছে, ‘ওনারে নিয়ে তো কোথাও যাইতে পারতাম না। ওনার খুব কষ্ট হয়। পরে উনি ঠিক করল, নিজেই দোকান দিবে। নগদ নিল এরপর। আমাগো জীবনটাই তাতে বদলে গেছে। এখন কারো মুখের দিকে তাকাতে হয় না।’

সর্বশেষ - দেশজুড়ে