মঙ্গলবার , ১৪ মে ২০২৪ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপ-সম্পাদকীয়
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশগ্রাম
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

এমভি আবদুল্লাহ শুঁটকিভর্তা ও চিংড়ি রেঁধে ছেলের অপেক্ষায় মা

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
মে ১৪, ২০২৪ ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোমালিয়ার দস্যুদের থেকে মুক্ত হওয়া ছেলে আইনুল হক অভিকে বুকে জড়িয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন মা লুৎফা আরা বেগম। তার যেন আর অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। কখন ছেলে বাসায় আসবে, কখন বুকে জড়িয়ে ধরবেন, সেই সময় গুনছেন তিনি। দস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার এক মাস পর আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্তানের সঙ্গে দেখা হবে মায়ের।

লুৎফা আরা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে কখন বুকে জড়িয়ে নেবো, সেই অপেক্ষায় আছি। তাকে ফিরে পাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। ছেলের প্রিয় খাবার শুঁটকিভর্তা, চিংড়ি মাছ রান্না করবো।’

জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার প্রায় এক মাস পর গতকাল সোমবার দেশে এসে পৌঁছেছে কেএসআরএম গ্রুপের জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। পণ্যবাহী জাহাজটি কুতুবদিয়ায় নোঙর করে রাখা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আইনুল হকসহ জাহাজটির ২৩ নাবিকের আজ মঙ্গলবার ঘরে ফেরার কথা।

এক মাস আগেও বাসায় লুৎফা আরা বেগমের দিন কেটেছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে কেএসআরএম গ্রুপের এই জাহাজ জিম্মি করার পর তার উদ্বেগ শুরু হয়। জিম্মিদশা শুরু হওয়ার পর তখন মায়ের অপেক্ষা ছিল কখন ফোন আসবে ছেলের। আইনুল হক দস্যুদের ফাঁকি দিয়ে সপ্তাহে এক-দু’বার মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন। দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করতেন।

লুৎফা আরা বেগম বর্তমানে ছোট ছেলেকে নিয়ে মিরসরাইয়ের আসকারদীঘির পাড়ের বাসায় থাকেন। ছোট ছেলে মাইনুল হক এবার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছেন। ২০০১ সালে করোনার সময় আইনুল হকের বাবা মারা যান। সে সময় আইনুল ছিলেন জাহাজে। বাবার মৃত্যুর কথা শুনে ছুটি নিয়ে বাবাকে শেষ দেখা দেখতে আসেন।

সরকারি নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৬ সালে কেএসআরএম গ্রুপের জাহাজে যোগ দেন আইনুল হক। ৯ বছরের জাহাজি জীবনে এবারই প্রথম জিম্মিদশায় পড়েন আইনুল হক। জাহাজের মালিকপক্ষ মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজসহ নাবিকদের মুক্ত করেছে। সেজন্য আইনুল হকের মা লুৎফা আরা বেগমের অনেকের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। জাহাজের মালিক কেএসআরএম গ্রুপ, সরকারসহ যাদের প্রচেষ্টায় নাবিকসহ জাহাজ মুক্ত হয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আইনুল হক মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূঁইয়া গ্রামের সুজাউল হক ভোলা মিয়ার ছেলে। তবে তারা সপরিবারে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি থাকেন।

এমভি আবদুল্লাহ সোমবার কুতুবদিয়া পৌঁছালেও এখনো লুৎফা আরা বেগমের সঙ্গে ছেলের দেখা হয়নি। ছেলে আইনুল হকসহ ২৩ নাবিকের মঙ্গলবার এমভি আবদুল্লাহ থেকে ছোট জাহাজে করে বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালের ১ নম্বর জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জিম্মিদশা থেকে নাবিকেরা মুক্তি পাওয়ার প্রায় এক মাস পার হতে চলেছে। এখন প্রতিদিনই হোয়াটসঅ্যাপে ছেলের সঙ্গে কথা হয় মায়ের। তবু মায়ের মন মানে না। লুৎফা আরা বেগম বলেন, কখন দেখা হবে ছেলের সঙ্গে, অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না।

গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে কেএসআরএম গ্রুপের এই জাহাজটি ছিনতাই করেছিল সোমালিয়ার দস্যুরা। মুক্তিপণ দিয়ে ৩৩ দিনের মাথায় ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে জাহাজটি মুক্ত হয়। এরপর জাহাজটি প্রথমে আমিরাতের আল-হামরিয়া বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে পণ্য খালাস শেষে আরেকটি বন্দর থেকে চুনাপাথর বোঝাই করে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়েছিল জাহাজটি।

সর্বশেষ - আইন-আদালত