গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ছিনতাই ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় করা মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টঙ্গী ও রাজধানীর আবদুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শনিবার র্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে একই ঘটনায় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করে টঙ্গী পূর্ব থানা ও রেলওয়ে পুলিশ।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নেত্রকোনার মো. রিপন মিয়া ও মো. আলাউদ্দিন, গাজীপুরের রমজান হোসেন (২২) ও মো. আসিফ দেওয়ান (২০) এবং ভোলার মো. আইমান (১৮)। তাঁরা সবাই টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় বসবাস করেন। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত দুটি চাকু, তিনটি ক্ষুর, একটি মুঠোফোন এবং ১ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র্যাব।
সিগন্যালে ট্রেন থামলেই বেরিয়ে আসে তারা, ছিনতাইয়ে বাধা পেলে ছুরিকাঘাত-পাথর নিক্ষেপ

র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিউটার ট্রেনটি টঙ্গী স্টেশনে প্রবেশ করার সময় গতি কমে যায় এবং একপর্যায়ে ট্রেনটি থেমে যায়। তখন হঠাৎ ট্রেনটি লক্ষ্য করে বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা ঢিল ছুড়তে থাকে। এতে কয়েক যাত্রী আহত হন এবং অনেকেই আত্মরক্ষার্থে ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে মুঠোফোন, টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। তাদের ছুরিকাঘাতে ট্রেনের স্টুয়ার্ডসহ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। এ ঘটনায় ট্রেনের টিটিই গোপালচন্দ্র বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে থানায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
ট্রেন থামতেই ছিনতাইকারীদের মুহুর্মুহু পাথর নিক্ষেপ, আতঙ্কিত যাত্রীরা শুয়ে পড়েন মেঝেতে

র্যাব-১–এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. পারভেজ রানা সাংবাদিকদের বলেন, ট্রেনে ছিনতাইয়ের এ ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল গভীর রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এবং রাজধানীর আবদুল্লাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার ৯ আসামিকে আজ আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফেরদৌস আহম্মেদ বিশ্বাস। তিনি বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এ জন্য রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ঘটনার সঙ্গে আর কে কে জড়িত বা তাঁরা কত দিন এভাবে ছিনতাই করছেন, তার বিস্তারিত জানা যাবে।